কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর উপায়: বাস্তবে উপকারী কাজ ও নিরাপদ সমাধান

একটি নতুন কম্পিউটার সাধারণত দ্রুত চালু হয়, সফটওয়্যার খুলতে কম সময় নেয় এবং একসঙ্গে একাধিক কাজও সহজে সামলাতে পারে। কিন্তু কয়েক মাস বা কয়েক বছর ব্যবহারের পর অনেক কম্পিউটারেই ধীরগতির সমস্যা দেখা দেয়। চালু হতে দীর্ঘ সময় লাগা, সফটওয়্যার খুলতে দেরি হওয়া, কাজের মাঝখানে আটকে যাওয়া কিংবা মাউসের নির্দেশে দেরিতে সাড়া দেওয়া—এসব লক্ষণ তখন নিয়মিত হয়ে উঠতে পারে।

তবে কম্পিউটার পুরোনো হলেই যে সেটি ধীর হয়ে যাবে, বিষয়টি সব সময় এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটার চালুর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার চালু হওয়া, মূল ড্রাইভে জায়গা কমে যাওয়া, অসম্পূর্ণ হালনাগাদ, ক্ষতিকর সফটওয়্যার, অতিরিক্ত পটভূমির কাজ অথবা ভুল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সেটিংসের কারণে গতি কমে যায়।

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর উপায়

আবার এমনও হতে পারে, কম্পিউটারে পর্যাপ্ত RAM নেই, পুরোনো Hard Disk ব্যবহার করা হচ্ছে অথবা Processor বর্তমান কাজের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাই কোনো একটি কথিত কৌশল প্রয়োগ করেই সব কম্পিউটারের গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। প্রথমে সমস্যার ধরন বুঝতে হবে, এরপর ধাপে ধাপে নিরাপদ সমাধান প্রয়োগ করতে হবে।

এই নির্দেশিকায় এমন কাজগুলোই রাখা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে উপকারী এবং বর্তমান Windows ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রথমে বুঝুন কম্পিউটারটি কখন ধীর হচ্ছে

সমাধান শুরুর আগে কম্পিউটারটি কোন পরিস্থিতিতে ধীর হচ্ছে, সেটি খেয়াল করুন। যেমন—

  • কম্পিউটার চালু হতেই কি বেশি সময় লাগছে?
  • চালু হওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট কি খুব ধীর থাকে?
  • নির্দিষ্ট কোনো সফটওয়্যার খুললেই কি সমস্যা হচ্ছে?
  • ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহারের সময় কি ধীর হয়ে যাচ্ছে?
  • ফাইল কপি করার সময় কি Disk ব্যবহার শতভাগে পৌঁছে যাচ্ছে?
  • একাধিক সফটওয়্যার খোলার পর কি কম্পিউটার আটকে যাচ্ছে?
  • কম্পিউটার গরম হওয়ার পর কি গতি কমছে?

এগুলো পর্যবেক্ষণ করলে সমস্যাটি সফটওয়্যার, সংরক্ষণস্থান, RAM, Processor নাকি তাপমাত্রার কারণে হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

Ctrl + Shift + Esc একসঙ্গে চাপলে Task Manager খোলা যায়। এখানে Processes অংশ থেকে কোন সফটওয়্যার কতটুকু CPU, Memory ও Disk ব্যবহার করছে, তা দেখা সম্ভব। তবে পরিচিত নয় এমন কোনো Windows প্রক্রিয়া বুঝে না নিয়ে বন্ধ করা উচিত নয়। Task Manager অপ্রয়োজনীয় চালু হওয়ার সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ এবং সক্রিয় প্রক্রিয়ার ব্যবহার পর্যবেক্ষণেও কাজে লাগে। (Microsoft Support)

১. কম্পিউটার পুনরায় চালু করে প্রাথমিক পরীক্ষা করুন

অনেক ব্যবহারকারী দিনের পর দিন কম্পিউটার পুরোপুরি বন্ধ না করে শুধু Sleep অবস্থায় রাখেন। এভাবে ব্যবহার করলে বিভিন্ন সফটওয়্যারের পটভূমির প্রক্রিয়া, আটকে থাকা কাজ এবং অসম্পূর্ণ হালনাগাদ দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে।

কম্পিউটার দীর্ঘ সময় Restart না দিলে অথবা কাজের সময় অস্বাভাবিক ধীরগতি দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করে একবার Restart দিন। মাসে একবার Storage, Startup apps ও Windows Update পরীক্ষা করতে পারেন। বাতাস চলাচলের ছিদ্র কত ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে, তা ব্যবহারের স্থান ও ধুলাবালির পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে।

তবে Restart কোনো স্থায়ী গতি বাড়ানোর কৌশল নয়। পুনরায় চালুর পর কম্পিউটার কিছুক্ষণ ভালো চললেও আবার ধীর হয়ে গেলে মূল কারণ খুঁজতে হবে। অপ্রয়োজনীয় চালু হওয়ার সফটওয়্যার, জায়গার সংকট বা হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা থেকে গেলে শুধু পুনরায় চালু করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

পিসি অন হচ্ছে কিন্তু ডিসপ্লে আসছে না? ধাপে ধাপে কারণ খুঁজে সমাধান করুন

২. Windows ও প্রয়োজনীয় Driver হালনাগাদ করুন

পুরোনো বা অসম্পূর্ণ Windows Update অনেক সময় স্থিতিশীলতা ও কাজের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। Microsoft-এর তথ্যমতে, Windows Update-এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সংশোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন ও কার্যক্ষমতার উন্নয়নও দেওয়া হয়। কিছু যন্ত্রাংশের ঐচ্ছিক Driver Update আলাদাভাবে পাওয়া যেতে পারে। (Microsoft Support)

Windows 11-এ হালনাগাদ যাচাই করতে—

  1. Start থেকে Settings খুলুন।
  2. Windows Update নির্বাচন করুন।
  3. Check for updates চাপুন।
  4. হালনাগাদ পাওয়া গেলে Download & install নির্বাচন করুন।
  5. ইনস্টল শেষে প্রয়োজন হলে কম্পিউটার পুনরায় চালু করুন।

ঐচ্ছিক Driver দেখার জন্য—

Settings > Windows Update > Advanced options > Optional updates

এখানে কোনো Driver Update থাকলেই সবগুলো একসঙ্গে ইনস্টল করতে হবে—এমন নয়। কম্পিউটারের মডেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা দেখে ইনস্টল করা ভালো। স্বাভাবিকভাবে চলা কম্পিউটারে অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে তথাকথিত Driver Updater নামিয়ে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

Windows 10 ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

Windows 10-এর সাধারণ সহায়তা ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে। সাধারণ Windows 10 সংস্করণ এখন আর বিনা মূল্যে নিয়মিত নিরাপত্তা সংশোধন, সফটওয়্যার হালনাগাদ ও কারিগরি সহায়তা পায় না। তবে কম্পিউটারটি কাজ করা বন্ধ হয়ে যাবে না। উপযুক্ত যন্ত্রে Windows 11 ব্যবহার অথবা যোগ্য Windows 10 যন্ত্রে সম্প্রসারিত নিরাপত্তা হালনাগাদ ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

৩. কম্পিউটার চালুর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বন্ধ করুন

কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় শুধু Windows নয়, আরও অনেক সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হতে পারে। যোগাযোগের সফটওয়্যার, গেমের চালুকরণ ব্যবস্থা, মেঘভিত্তিক সংরক্ষণ সেবা, নির্মাতার সহায়ক সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন হালনাগাদ পরীক্ষক পটভূমিতে চালু হয়।

এগুলোর সংখ্যা বেশি হলে কম্পিউটার চালু হতে সময় লাগে। চালু হওয়ার পরও কিছুক্ষণ Processor, RAM ও সংরক্ষণযন্ত্র ব্যস্ত থাকতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় চালু হওয়ার সফটওয়্যার বন্ধ করতে—

  1. Ctrl + Shift + Esc চেপে Task Manager খুলুন।
  2. Startup apps অংশে যান।
  3. প্রতিটি সফটওয়্যারের নাম ও Startup impact দেখুন।
  4. যেটি কম্পিউটার চালু হওয়ার সঙ্গে প্রয়োজন নেই, সেটি নির্বাচন করুন।
  5. Disable চাপুন।

Microsoft-এর বর্তমান নির্দেশিকাতেও Task Manager অথবা Windows Settings থেকে চালু হওয়ার সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সফটওয়্যার Disable করলে সেটি কম্পিউটার থেকে মুছে যায় না; শুধু স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া বন্ধ হয়। প্রয়োজন হলে পরে স্বাভাবিকভাবে সফটওয়্যারটি খোলা যাবে। (Microsoft Support)

তবে Antivirus, শব্দ নিয়ন্ত্রণ, Touchpad, Graphics, যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা বা নির্মাতার প্রয়োজনীয় সেবা না বুঝে বন্ধ করবেন না। প্রথমে পরিচিত ও অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো নিয়ন্ত্রণ করুন।

৪. ব্যবহার না করা সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলুন

কম্পিউটারে অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকলেই সরাসরি গতি কমবে, এমন নয়। কিন্তু কিছু সফটওয়্যার পটভূমিতে সেবা চালু রাখে, নিয়মিত হালনাগাদ পরীক্ষা করে, বিজ্ঞপ্তি দেখায় অথবা চালুর সঙ্গে সক্রিয় হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি এমন সফটওয়্যার সরিয়ে ফেললে সংরক্ষণস্থানের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পটভূমির কাজও কমতে পারে।

Windows 11-এ সফটওয়্যার সরাতে—

  1. Start > Settings খুলুন।
  2. Apps নির্বাচন করুন।
  3. Installed apps খুলুন।
  4. প্রয়োজন নেই এমন সফটওয়্যারের পাশে তিন বিন্দুর চিহ্ন চাপুন।
  5. Uninstall নির্বাচন করুন।

পুরোনো সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে Control Panel > Programs > Programs and Features থেকেও সরানো যায়। Microsoft উভয় পদ্ধতিকেই সমর্থন করে। (Microsoft Support)

সফটওয়্যারের নাম পরিচিত না হলে আগে সেটি সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। Microsoft Visual C++, যন্ত্রাংশের Driver, শব্দ বা Graphics-সংশ্লিষ্ট উপাদান এবং নির্মাতার প্রয়োজনীয় সেবা না বুঝে মুছে ফেললে অন্য সফটওয়্যার বা যন্ত্রাংশে সমস্যা হতে পারে।

কম্পিউটারের মাদারবোর্ড নষ্ট হলে কীভাবে বুঝবেন? লক্ষণ ও সমাধান

৫. মূল ড্রাইভের জায়গা যাচাই করুন

Windows সাধারণত যে ড্রাইভে ইনস্টল করা থাকে, সেটি অধিকাংশ কম্পিউটারে C Drive নামে দেখা যায়। এই ড্রাইভে Windows, সফটওয়্যার, হালনাগাদের ফাইল, ব্যবহারকারীর তথ্য ও অস্থায়ী ফাইল জমা হয়।

জায়গা খুব কমে গেলে নতুন হালনাগাদ ইনস্টল, অস্থায়ী তথ্য তৈরি এবং সফটওয়্যারের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। Microsoft-এর Storage ব্যবস্থায় কোন ধরনের ফাইল কত জায়গা ব্যবহার করছে, তা আলাদাভাবে দেখা যায়। (Microsoft Support)

জায়গার ব্যবহার দেখতে—

Start > Settings > System > Storage

এখানে Installed apps, Temporary files, Documents, Pictures, Other এবং অন্যান্য অংশ কত জায়গা নিয়েছে, তা দেখা যাবে। বড় ফাইল বা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আগে শনাক্ত করুন। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও নথি না দেখে মুছে ফেলবেন না।

৬. Temporary Files নিরাপদ পদ্ধতিতে পরিষ্কার করুন

কাজের সময় Windows ও বিভিন্ন সফটওয়্যার অস্থায়ী ফাইল তৈরি করে। সব অস্থায়ী ফাইল ক্ষতিকর নয়। অনেক ফাইল সফটওয়্যারের কাজ সহজ করা, হালনাগাদ সম্পন্ন করা কিংবা সাময়িক তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অস্থায়ী ফাইল পরিষ্কার করার নিরাপদ পদ্ধতি হলো—

  1. Settings খুলুন।
  2. System > Storage নির্বাচন করুন।
  3. Temporary files খুলুন।
  4. তালিকার প্রতিটি অংশ ভালোভাবে দেখুন।
  5. প্রয়োজনীয় অংশ নির্বাচন করে Remove files চাপুন।

এখানে Downloads বা আগের Windows installation-এর মতো অংশ থাকতে পারে। Downloads নির্বাচন করলে ব্যবহারকারীর নিজের নামানো ফাইলও মুছে যেতে পারে। তাই প্রতিটি ঘর না দেখে সব নির্বাচন করা ঠিক নয়।

Cleanup recommendations অংশ থেকেও বড়, অপ্রয়োজনীয় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া ফাইল ও সফটওয়্যারের প্রস্তাব দেখা যায়। Microsoft বর্তমান Windows সংস্করণে অস্থায়ী ফাইল ও জায়গা ব্যবস্থাপনার জন্য Storage Settings, Cleanup recommendations এবং Storage Sense ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। (Microsoft Support)

Temp ও Prefetch নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

নিয়মিত Prefetch ফাইল মুছে কম্পিউটারের গতি বাড়ে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সাধারণ নির্দেশনা নেই। তাই গতি বাড়ানোর নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে এই ফোল্ডারের সব ফাইল মুছে ফেলা উচিত নয়। অনলাইনে অনেক নির্দেশিকায় Run খুলে temp, %temp%, recent ও prefetch লিখে সব ফাইল মুছে ফেলতে বলা হয়। কিন্তু সব ফোল্ডারের উদ্দেশ্য এক নয়।

বিশেষ করে নিয়মিত Prefetch ফাইল মুছে কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর দাবি নির্ভরযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় Prefetch তথ্য আবার তৈরি করতে হয় বলে কিছু সফটওয়্যার প্রথমবার চালু হতে বরং সাময়িকভাবে বেশি সময় নিতে পারে। বর্তমান Windows-এ জায়গা পরিষ্কারের জন্য সরাসরি Storage ও Storage Sense ব্যবহার করাই সহজ ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি।

৭. Storage Sense চালু রাখুন

বারবার হাতে অস্থায়ী ফাইল পরিষ্কার করতে না চাইলে Storage Sense ব্যবহার করা যায়। এটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় অস্থায়ী ফাইল ও Recycle Bin-এর পুরোনো ফাইল পরিষ্কার করতে পারে। ব্যবহারকারী কতদিন পর কোন ধরনের ফাইল পরিষ্কার হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে পারেন। (Microsoft Support)

চালু করতে—

  1. Settings > System > Storage খুলুন।
  2. Storage Sense নির্বাচন করুন।
  3. সুবিধাটি চালু করুন।
  4. কত সময় পর পরিষ্কার হবে, সেটি ঠিক করুন।
  5. Downloads পরিষ্কারের নিয়ম খুব সতর্কভাবে নির্বাচন করুন।

Downloads ফোল্ডারে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, ছবি, নথি বা কাজের ফাইল থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার না করাই অনেক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ।

৮. Recycle Bin পরিষ্কার করার আগে ফাইল যাচাই করুন

সাধারণভাবে কোনো ফাইল মুছে দিলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফাইলটি Recycle Bin-এ যায়, যাতে ভুল করে মুছে ফেলা হলে ফিরিয়ে আনা যায়।

Recycle Bin-এ বড় ভিডিও, পুরোনো সফটওয়্যারের স্থাপন ফাইল বা বড় সংরক্ষণ ফাইল জমে থাকলে ড্রাইভের জায়গা দখল করে রাখতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে এটি খুলে ফাইলগুলো যাচাই করা যেতে পারে।

সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর—

  1. Recycle Bin খুলুন।
  2. প্রয়োজনীয় কোনো ফাইল আছে কি না দেখুন।
  3. প্রয়োজনীয় ফাইল থাকলে Restore করুন।
  4. এরপর Empty Recycle Bin নির্বাচন করুন।

শুধু Recycle Bin খালি করলেই কম্পিউটারের Processor বা RAM দ্রুত হয়ে যায় না। এর প্রধান সুবিধা হলো সংরক্ষণস্থানের জায়গা ফেরত পাওয়া। জায়গার সংকট থাকলে এই কাজটি উপকারী হতে পারে।

৯. Windows Security দিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যার পরীক্ষা করুন

কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর হওয়া, নিজে থেকে বিজ্ঞাপন খোলা, ব্রাউজারের প্রথম পৃষ্ঠা বদলে যাওয়া, অপরিচিত সফটওয়্যার দেখা অথবা পটভূমিতে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের পেছনে ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকতে পারে।

Windows Security থেকে প্রাথমিক পরীক্ষা চালাতে—

  1. Start থেকে Windows Security খুলুন।
  2. Virus & threat protection নির্বাচন করুন।
  3. Quick scan চাপুন।
  4. সন্দেহ থেকে গেলে Scan options খুলুন।
  5. প্রয়োজন অনুযায়ী Full scan অথবা Microsoft Defender Offline scan নির্বাচন করুন।

Microsoft সন্দেহজনক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা চালানোর পরামর্শ দেয়। Quick scan-এ কিছু পাওয়া না গেলেও সমস্যা থেকে গেলে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা ব্যবহার করা যায়। (Microsoft Support)

একই সঙ্গে একাধিক পূর্ণাঙ্গ Antivirus চালানো সব সময় ভালো নয়। একাধিক নিরাপত্তা সফটওয়্যার একই ফাইল ও প্রক্রিয়া পরীক্ষা করলে অপ্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহার বা পারস্পরিক বিরোধ তৈরি হতে পারে। আগে থেকে অন্য নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকলে সেটির অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।

১০. Power Mode প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করুন

ল্যাপটপ ও কিছু ডেস্কটপ কম্পিউটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও কাজের গতির মধ্যে ভারসাম্য ঠিক করতে Power mode থাকে। Best power efficiency বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দেয়, আর Best performance কাজের গতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। Balanced বা সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাধারণত উপযোগী।

সেটিংস পরিবর্তন করতে—

Start > Settings > System > Power & battery > Power mode

ভারী সফটওয়্যার, ভিডিও সম্পাদনা বা অন্য চাপযুক্ত কাজের সময় বিদ্যুৎ সংযোগে থাকা অবস্থায় Best performance ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এতে কম্পিউটার “কয়েক গুণ” দ্রুত হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যন্ত্রাংশের ক্ষমতা একই থাকবে; শুধু বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কাজের গতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া, ফ্যান বেশি ঘোরা বা তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে। Microsoft-ও কাজের ধরন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ভারসাম্য অথবা উন্নত কার্যক্ষমতার ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার কথা বলেছে। (Microsoft Support)

RAM আপগ্রেড করার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা দরকার

১১. Windows Search পুরোপুরি বন্ধ না করে পরিসর নিয়ন্ত্রণ করুন

কম ক্ষমতার কম্পিউটারে ফাইলের অনুসন্ধান সূচি তৈরির সময় সাময়িকভাবে Disk বা Processor ব্যবহার বাড়তে পারে। এ কারণে অনেকেই Windows Search সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেন।

কিন্তু Windows Search ফাইল ও ফাইলের বৈশিষ্ট্যের সূচি তৈরি করে, যাতে দ্রুত অনুসন্ধানের ফল দেখানো যায়। সেবাটি পুরোপুরি বন্ধ করলে Start Menu, ফাইল অনুসন্ধান এবং কিছু সফটওয়্যারের অনুসন্ধান ধীর বা অকার্যকর হতে পারে। (Microsoft Support)

তাই পুরো সেবা বন্ধ করার পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় ফোল্ডার বাদ দেওয়া ভালো।

Windows 11-এ—

Settings > Privacy & security অংশে Search বা Searching Windows খুলুন। অপশনের নাম Windows-এর সংস্করণভেদে সামান্য আলাদা হতে পারে।

যারা নিয়মিত কম্পিউটারে ফাইল খোঁজেন, তাদের জন্য অনুসন্ধান সূচি উপকারী। শুধু খুব কম ক্ষমতার কম্পিউটারে সূচি তৈরির কারণে ধারাবাহিক সমস্যা নিশ্চিত হলে পরিসর সীমিত করা যেতে পারে।

Tree কমান্ড চালালে কি কম্পিউটার দ্রুত হয়?

Run অথবা Command Prompt-এ Tree লিখে চালালে কম্পিউটারের গতি বাড়ে—এমন একটি প্রচলিত দাবি রয়েছে। এটি সঠিক নয়।

Microsoft-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, Tree কমান্ডের কাজ হলো কোনো ড্রাইভ বা ফোল্ডারের ভেতরের ডিরেক্টরি কাঠামো গাছের মতো সাজিয়ে দেখানো। এটি অস্থায়ী ফাইল পরিষ্কার, RAM খালি, Processor দ্রুত অথবা Windows মেরামত করে না। ফলে গতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত এই কমান্ড চালানোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। (Microsoft Learn)

উল্লিখিত পরিবর্তনগুলো শেষ হলে প্রয়োজনীয় কাজ সংরক্ষণ করে কম্পিউটারটি একবার পুনরায় চালু করুন। এরপর আগের মতো একই সফটওয়্যার ও একই ধরনের কাজ করে পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করুন।

কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় কমেছে কি না, সফটওয়্যার দ্রুত খুলছে কি না এবং Task Manager-এ CPU, Memory বা Disk অস্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—এসব দেখুন।

এই পদক্ষেপগুলোর পরও কম্পিউটার ধীর থাকলে সমস্যা শুধু অস্থায়ী ফাইল বা Windows Settings-এ সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পুরোনো Hard Disk, কম RAM, দুর্বল Processor, সংরক্ষণযন্ত্রের ত্রুটি অথবা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের সমস্যাও তখন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

হার্ডওয়্যার, তাপমাত্রা ও উন্নত সমাধানে কম্পিউটারের গতি বাড়ানো

উপরে উল্লেখিত কাজগুলো শেষ করার পরও কম্পিউটার ধীর থাকলে সমস্যাটি শুধু অস্থায়ী ফাইল, চালুর সময় সক্রিয় হওয়া সফটওয়্যার বা Windows-এর সাধারণ সেটিংসে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত Hard Disk, অপর্যাপ্ত RAM, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ক্ষতিগ্রস্ত সংরক্ষণযন্ত্র কিংবা একসঙ্গে অনেক ভারী সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণেও গতি কমে যেতে পারে।

এ পর্যায়ে কোনো কথিত পরিষ্কারকারী সফটওয়্যার ইনস্টল না করে প্রথমে কম্পিউটারের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কোন কাজের সময় সমস্যা হচ্ছে, Task Manager-এ কোন যন্ত্রাংশের ব্যবহার বেশি দেখাচ্ছে এবং কম্পিউটার গরম হচ্ছে কি না—এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১২. অপ্রয়োজনীয় Visual Effects কমিয়ে দিন

বর্তমান Windows সংস্করণে জানালা খোলা ও বন্ধ হওয়া, স্বচ্ছতা, ছায়া, চলমান দৃশ্য এবং বিভিন্ন রূপান্তরের জন্য Visual Effects ব্যবহার করা হয়। নতুন ও শক্তিশালী কম্পিউটারে এসব প্রভাব সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না। তবে কম RAM, পুরোনো Processor অথবা দুর্বল সমন্বিত Graphics থাকা কম্পিউটারে এগুলো বন্ধ বা সীমিত করলে নির্দেশে সাড়া দেওয়ার গতি কিছুটা ভালো হতে পারে।

সেটিংস পরিবর্তন করতে—

  1. Start মেনুর অনুসন্ধানে Adjust the appearance and performance of Windows লিখুন।
  2. পাওয়া ফলাফলটি খুলুন।
  3. Visual Effects অংশে যান।
  4. Adjust for best performance নির্বাচন করুন।
  5. Apply এবং পরে OK চাপুন।

এটি নির্বাচন করলে বেশির ভাগ দৃশ্যমান প্রভাব বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে লেখার প্রান্ত, ক্ষুদ্র ছবি বা জানালার উপস্থাপন আগের তুলনায় কিছুটা সাধারণ দেখাতে পারে। সব প্রভাব বন্ধ রাখতে না চাইলে Custom নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো চালু রাখা যায়।

উদাহরণ হিসেবে Smooth edges of screen fonts চালু রাখলে লেখাগুলো তুলনামূলক পরিষ্কার দেখা যায়। Microsoft-ও জানিয়েছে, Windows 11-এর দৃশ্যমান প্রভাব যন্ত্রের সম্পদ ব্যবহার করে এবং কম ক্ষমতার কম্পিউটারে সেগুলো কমালে সাড়া দেওয়ার গতি উন্নত হতে পারে। (Microsoft Support)

১৩. ব্রাউজারের অপ্রয়োজনীয় Tab ও Extension নিয়ন্ত্রণ করুন

অনেকের কম্পিউটার স্বাভাবিকভাবে দ্রুত চলে, কিন্তু Google Chrome, Microsoft Edge বা অন্য ব্রাউজার খোলার পর ধীর হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ হতে পারে একসঙ্গে অনেক Tab খোলা, ভারী ওয়েবসাইট চালানো, ভিডিও চলা অথবা অতিরিক্ত Extension সক্রিয় থাকা।

একটি ব্রাউজারের প্রতিটি Tab ও Extension আলাদা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে RAM ও Processor ব্যবহার করতে পারে। তাই কাজ শেষ হলেও দিনের পর দিন অনেক Tab খোলা রাখলে কম ক্ষমতার কম্পিউটারে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

প্রথমে প্রয়োজন নেই এমন Tab বন্ধ করুন। এরপর ব্রাউজারের Extension তালিকা খুলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি বা উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত নন—এমনগুলো সরিয়ে দিন। বিজ্ঞাপন আটকানো, পর্দার ছবি নেওয়া, অনুবাদ, ভিপিএন ও কেনাকাটার সহায়ক হিসেবে একই ধরনের একাধিক Extension রাখা প্রয়োজন হয় না।

Google Chrome-এ Memory Saver চালু করুন

  1. Chrome খুলুন।
  2. উপরের ডান পাশে তিন বিন্দুর চিহ্ন চাপুন।
  3. Settings > Performance খুলুন।
  4. Memory Saver চালু করুন।
  5. প্রয়োজন হলে নিষ্ক্রিয় হওয়ার মাত্রা নির্বাচন করুন।

Memory Saver দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা Tab নিষ্ক্রিয় করে অন্য সক্রিয় কাজের জন্য স্মৃতি খালি করতে পারে। আবার সেই Tab খুললে পৃষ্ঠাটি প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সক্রিয় হবে। (Google Help)

Microsoft Edge-এ Sleeping Tabs ব্যবহার করুন

Microsoft Edge-এর Sleeping Tabs সুবিধা কিছু সময় ব্যবহার না করা পটভূমির Tab স্থগিত করে সক্রিয় Tab ও অন্য সফটওয়্যারের জন্য সম্পদ ছেড়ে দেয়। সময়সীমা Settings > System and performance থেকে পরিবর্তন করা যায়।

তবে শুধু ব্রাউজারের স্মৃতি ব্যবহার বেশি দেখলেই সেটিকে ত্রুটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আধুনিক ব্রাউজার দ্রুত কাজ করার জন্য উপলভ্য RAM ব্যবহার করে। সমস্যা তখনই গুরুত্বপূর্ণ, যখন অন্য সফটওয়্যার খুলতে দেরি হয়, কম্পিউটার আটকে যায় অথবা Memory ব্যবহার নিয়মিত প্রায় পূর্ণ থাকে।

SSD Vs NVMe SSD: পার্থক্য, ব্যবহার ও PC-এর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত

১৪. পটভূমিতে চলা অপ্রয়োজনীয় App সীমিত করুন

কিছু সফটওয়্যার বন্ধ করার পরও পটভূমিতে তথ্য হালনাগাদ, বিজ্ঞপ্তি পাঠানো বা সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যায়। সংবাদ, আবহাওয়া, যোগাযোগ, ক্লাউড সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সহায়ক সফটওয়্যার এভাবে সম্পদ ব্যবহার করতে পারে।

Windows 11-এ কোনো সমর্থিত সফটওয়্যারের পটভূমির অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতে—

  1. Settings > Apps > Installed apps খুলুন।
  2. সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের পাশে তিন বিন্দুর চিহ্ন চাপুন।
  3. Advanced options পাওয়া গেলে সেটি খুলুন।
  4. Background apps permissions অংশ থেকে Never নির্বাচন করুন।

সব সফটওয়্যারে এই ব্যবস্থা দেখা যাবে না। আবার বার্তা, ক্লাউড সমন্বয় বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার পুরোপুরি পটভূমিতে বন্ধ করলে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া বন্ধ হতে পারে। তাই শুধু প্রয়োজন নেই এমন সফটওয়্যারের অনুমতি সীমিত করুন। Microsoft-এর কার্যক্ষমতা নির্দেশিকাতেও অপ্রয়োজনীয় পটভূমির সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ রয়েছে। (Microsoft Support)

১৫. কম্পিউটার অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন

কম্পিউটার কাজ করার সময় কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। ভারী সফটওয়্যার, ভিডিও সম্পাদনা, গেম বা দীর্ঘ সময়ের কাজের সময় তাপমাত্রা ও ফ্যানের গতি বাড়তে পারে। কিন্তু সাধারণ কাজেও কম্পিউটার খুব গরম হওয়া, ফ্যান সব সময় জোরে ঘোরা, হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা কিছুক্ষণ পর গতি কমে যাওয়া তাপজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

Processor নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি গরম হলে নিজেকে রক্ষার জন্য কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে Thermal Throttling বলা হয়। Intel-এর তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে Processor ঘড়ির গতি কমায়; তাতেও নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় না থাকলে স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। (Intel)

বাতাস চলাচলের পথ খোলা রাখুন

ল্যাপটপ বিছানা, বালিশ, কম্বল বা নরম কাপড়ের ওপর রেখে ব্যবহার করলে নিচের বা পাশের বাতাস চলাচলের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই শক্ত, সমতল ও পরিষ্কার স্থানে ব্যবহার করুন।

ডেস্কটপের চারপাশেও কিছু খালি জায়গা রাখুন। দেয়ালের সঙ্গে পেছনের বাতাস বের হওয়ার অংশ পুরোপুরি চেপে রাখবেন না। কম্পিউটারের ভেতরে বাতাস ঢোকা ও বের হওয়ার পথ দুটিই সচল থাকা প্রয়োজন।

বাইরের Vent পরিষ্কার করুন

কম্পিউটার বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বাহ্যিক যন্ত্র বিচ্ছিন্ন করুন। বাতাস চলাচলের অংশে ধুলা দেখা গেলে শুকনো নরম কাপড় অথবা নির্দেশনা মেনে Compressed Air ব্যবহার করা যায়। পাত্রটি উল্টো করে বা খুব কাছে ধরে ব্যবহার করলে ঠান্ডা তরল বের হয়ে ক্ষতি করতে পারে। Dell-এর নির্দেশিকায় যন্ত্র বন্ধ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাতাসের ছিদ্র থেকে ধুলা পরিষ্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। (Dell)

মুখ দিয়ে ফুঁ দেওয়া, ভেজা কাপড় ব্যবহার করা অথবা চালু অবস্থায় কম্পিউটারের ভেতরে পরিষ্কার করা উচিত নয়। যন্ত্রের নিশ্চয়তার মেয়াদ থাকলে বা খুলতে অভিজ্ঞ না হলে ভেতরের ফ্যান, Heat Sink কিংবা Thermal Paste নিজে পরিবর্তন না করে অনুমোদিত কারিগরের সহায়তা নিন।

Cooling Pad কতটা উপকারী

ল্যাপটপের নিচে বাতাস চলাচল কম হলে ভালো মানের Cooling Pad কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে ভেতরের ফ্যান নষ্ট, বাতাসের পথ ধুলায় বন্ধ বা Thermal Paste অকার্যকর হলে শুধু Cooling Pad স্থায়ী সমাধান নয়। Dell-এর সহায়তা নির্দেশিকাতেও উপযুক্ত বাতাস চলাচলের জন্য Cooling Pad সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৬. HDD থাকলে SSD-তে Windows স্থানান্তর বিবেচনা করুন

পুরোনো কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সবচেয়ে দৃশ্যমান হার্ডওয়্যার পরিবর্তনগুলোর একটি হলো প্রচলিত Hard Disk Drive বা HDD থেকে Solid-State Drive বা SSD ব্যবহার করা।

HDD-এর ভেতরে ঘূর্ণায়মান চাকতি ও চলমান যান্ত্রিক অংশ থাকে। অন্যদিকে SSD স্মৃতিভিত্তিক চিপে তথ্য সংরক্ষণ করে। চলমান যন্ত্রাংশ না থাকায় তথ্য পড়া ও লেখার সময় কম লাগে। ফলে Windows চালু হওয়া, সফটওয়্যার খোলা, ফাইল অনুসন্ধান এবং সাধারণ নির্দেশে সাড়া দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। Kingston-এর তথ্য অনুযায়ী SSD-এর দ্রুত তথ্য প্রবেশাধিকার এবং HDD-এর তুলনায় দ্রুত চালু ও সফটওয়্যার খোলার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। (Kingston Technology Company)

তবে SSD লাগালেই দুর্বল Processor শক্তিশালী হয়ে যাবে বা কম RAM-এর সীমাবদ্ধতা দূর হবে না। SSD মূলত তথ্য পড়া ও লেখার অপেক্ষা কমায়। পুরোনো HDD-এর কারণে Disk ব্যবহার নিয়মিত শতভাগে পৌঁছালে এর সুফল বেশি বোঝা যায়।

SSD কেনার আগে যে বিষয়গুলো মিলিয়ে নেবেন

  • কম্পিউটারে 2.5-inch SATA, M.2 SATA নাকি M.2 NVMe সমর্থন করে
  • কত ধারণক্ষমতার SSD প্রয়োজন
  • যন্ত্রের BIOS ও মূল বোর্ড সংশ্লিষ্ট SSD সমর্থন করে কি না
  • পুরোনো Windows কপি করবেন, নাকি নতুন করে ইনস্টল করবেন
  • পুরোনো ড্রাইভের প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ নেওয়া হয়েছে কি না

শুধু M.2 লেখা দেখেই NVMe SSD কিনবেন না। একই আকৃতির সংযোগস্থল থাকলেও সব কম্পিউটার সব ধরনের M.2 SSD সমর্থন করে না। কম্পিউটার বা মূল বোর্ডের সঠিক মডেলের ব্যবহার নির্দেশিকা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১৭. RAM বাড়ানো প্রয়োজন কি না বুঝুন

RAM হলো কম্পিউটারের চলমান কাজের সাময়িক স্মৃতি। একসঙ্গে অনেক সফটওয়্যার, ব্রাউজারের Tab, বড় নথি, ছবি সম্পাদনা অথবা ভিডিও সফটওয়্যার খোলা থাকলে বেশি RAM প্রয়োজন হয়।

RAM কম হলে Windows সংরক্ষণযন্ত্রের একটি অংশকে সাময়িক স্মৃতি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এটি প্রকৃত RAM-এর তুলনায় ধীর। ফলে সফটওয়্যার পরিবর্তন, নতুন জানালা খোলা এবং একসঙ্গে কাজ করার সময় দেরি অনুভূত হতে পারে।

Task Manager > Performance > Memory খুলে ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করুন। স্বাভাবিক কাজের সময় স্মৃতি ব্যবহার নিয়মিত প্রায় পূর্ণ থাকলে এবং সফটওয়্যার বন্ধ করার পর গতি কিছুটা ফিরে এলে RAM বাড়ানো উপকারী হতে পারে। Kingston-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত RAM বিশেষ করে একসঙ্গে একাধিক কাজের ক্ষমতা ও বড় সফটওয়্যারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে। (Kingston Technology Company)

তবে RAM ব্যবহারের পরিমাণ বেশি না হলে শুধু বেশি ধারণক্ষমতার RAM লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নাও পাওয়া যেতে পারে। যেমন, কম্পিউটারে পুরোনো HDD থাকলে আগে SSD ব্যবহার অধিক দৃশ্যমান পরিবর্তন দিতে পারে।

RAM কেনার আগে যা যাচাই করবেন

  • DDR3, DDR4 নাকি DDR5
  • ডেস্কটপের DIMM নাকি ল্যাপটপের SO-DIMM
  • মূল বোর্ড সর্বোচ্চ কত RAM সমর্থন করে
  • কয়টি খালি Slot রয়েছে
  • বর্তমানে থাকা RAM-এর গতি ও ধারণক্ষমতা
  • যন্ত্রে RAM স্থায়ীভাবে যুক্ত করা আছে কি না

এক প্রজন্মের RAM অন্য প্রজন্মের সংযোগস্থলে লাগানো যায় না। তাই দোকানে শুধু কম্পিউটারের নাম বলার পরিবর্তে সঠিক মডেল নম্বর ও বর্তমান RAM-এর তথ্য দিন।

১৮. RAM-এ সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করুন

কেবল RAM কম হলেই কম্পিউটার ধীর হয় না; ত্রুটিযুক্ত RAM থাকলেও সফটওয়্যার বন্ধ হয়ে যাওয়া, নীল পর্দা, হঠাৎ পুনরায় চালু হওয়া বা তথ্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিকভাবে Windows Memory Diagnostic চালাতে—

  1. প্রয়োজনীয় সব কাজ সংরক্ষণ করুন।
  2. Windows + R চাপুন।
  3. mdsched লিখে Enter চাপুন।
  4. Restart now and check for problems নির্বাচন করুন।
  5. কম্পিউটার পুনরায় চালু হয়ে পরীক্ষা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

Microsoft-এর নির্দেশনাতেও mdsched ব্যবহার করে Windows Memory Diagnostic চালানোর পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। (Microsoft Support)

এই পরীক্ষায় ত্রুটি পাওয়া গেলে RAM খুলে আবার লাগানো, আলাদা Slot-এ পরীক্ষা করা বা মডিউল পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং স্থির বিদ্যুতের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হলে কারিগরের সহায়তা নেওয়া নিরাপদ।

Computer Hidden Functions: কম্পিউটারের লুকানো ফাংশন যা সময় বাঁচায়

১৯. Storage Drive-এর স্বাস্থ্য ও সতর্কবার্তা দেখুন

সংরক্ষণযন্ত্র দুর্বল বা নষ্ট হওয়ার পথে থাকলে কম্পিউটার ধীর হওয়া, ফাইল খুলতে দেরি, বারবার ত্রুটি, সফটওয়্যার আটকে যাওয়া অথবা তথ্য সংরক্ষণে ব্যর্থতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Windows Security > Device performance & health খুললে সংরক্ষণস্থান, ব্যাটারি ও ব্যবস্থার কিছু সাধারণ সমস্যা সম্পর্কে সতর্কতা ও প্রস্তাব দেখা যেতে পারে।

আধুনিক কিছু NVMe SSD-এর ক্ষেত্রে Settings > System > Storage > Advanced storage settings > Disks & volumes থেকে ড্রাইভের বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সতর্কতা দেখা যেতে পারে। তবে এই সুবিধা সব SATA SSD, HDD বা বাহ্যিক ড্রাইভের স্বাস্থ্য দেখায় না।

Windows যদি সংরক্ষণযন্ত্র সম্পর্কে গুরুতর সতর্কতা দেখায়, তখন গতি বাড়ানোর পরীক্ষা না করে প্রথমে প্রয়োজনীয় তথ্য অন্য ড্রাইভ বা নিরাপদ সংরক্ষণস্থানে কপি করুন। Microsoft-এর তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর সতর্কতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভে লেখার ক্ষমতা হারানো বা ড্রাইভ ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। (Microsoft Support)

ড্রাইভ থেকে অস্বাভাবিক ঘর্ষণ, টিকটিক বা ক্লিকের শব্দ এলে, বিশেষ করে HDD হলে, বারবার পরীক্ষা চালানোর পরিবর্তে দ্রুত ব্যাকআপ নেওয়া ভালো।

২০. HDD ও SSD সঠিকভাবে Optimize করুন

পুরোনো HDD-এ ফাইলের অংশ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকলে তথ্য পড়তে বেশি সময় লাগতে পারে। Windows-এর Optimize Drives ব্যবস্থা HDD-এর তথ্য সাজাতে এবং SSD-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় TRIM কার্যক্রম চালাতে পারে।

পরীক্ষা করতে—

  1. Start মেনুতে Defragment and Optimize Drives লিখুন।
  2. পাওয়া সফটওয়্যারটি খুলুন।
  3. সংশ্লিষ্ট ড্রাইভ নির্বাচন করুন।
  4. Optimize চাপুন।

বর্তমান Windows সাধারণত নির্ধারিত সময়ে ড্রাইভ নিজে থেকেই উন্নত করে। তাই প্রতিদিন হাতে এটি চালানোর প্রয়োজন নেই। Microsoft জানিয়েছে, HDD-এর ক্ষেত্রে তথ্য পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং SSD-এর ক্ষেত্রে দক্ষ তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য TRIM পরিচালিত হয়। (Microsoft Support)

অপরিচিত তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার দিয়ে SSD-কে জোর করে প্রচলিত পদ্ধতিতে বারবার Defragment করা উচিত নয়। Windows-এর নিজস্ব Optimize Drives ব্যবহার করাই নিরাপদ।

২১. Windows-এর System File ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরীক্ষা করুন

কম্পিউটার শুধু ধীর নয়, বরং Windows-এর সুবিধা খুলছে না, সফটওয়্যার অস্বাভাবিকভাবে বন্ধ হচ্ছে বা হালনাগাদ ব্যর্থ হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থার ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রথমে সব Windows Update সম্পন্ন করে কম্পিউটার পুনরায় চালু করুন। সমস্যা থেকে গেলে প্রশাসক হিসেবে Command Prompt অথবা Terminal খুলে নিচের নির্দেশ চালানো যায়—

DISM.exe /Online /Cleanup-image /Restorehealth

এটি সম্পন্ন হওয়ার পর—

sfc /scannow

পরীক্ষা শতভাগ শেষ হওয়ার আগে জানালা বন্ধ করবেন না। Microsoft-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে DISM এবং পরে System File Checker চালানো ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুপস্থিত ব্যবস্থার ফাইল মেরামতে সহায়তা করতে পারে।

শুধু কম্পিউটার কিছুটা ধীর মনে হলেই নিয়মিত এসব নির্দেশ চালানোর প্রয়োজন নেই। Windows-এর ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ থাকলে তবেই ব্যবহার করুন।

২২. Registry Cleaner ও কথিত PC Booster থেকে সতর্ক থাকুন

অনলাইনে এমন অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়, যেগুলো একবার চাপলেই কম্পিউটার কয়েক গুণ দ্রুত করা, হাজারো ত্রুটি মেরামত বা RAM পরিষ্কার করার দাবি করে। এসব সফটওয়্যারের কিছু অপ্রয়োজনীয় ফাইল দেখিয়ে ভয় তৈরি করে অর্থ দাবি করতে পারে। কোনো কোনো সফটওয়্যার প্রয়োজনীয় Registry তথ্য, চালক বা ব্যবস্থার ফাইল পরিবর্তন করে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আধুনিক Windows-এ সাধারণ ব্যবহারকারীর নিয়মিত Registry Cleaner চালানোর প্রয়োজন নেই। Storage Sense, Windows Security, Task Manager, Windows Update এবং Optimize Drives দিয়েই বেশির ভাগ প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।

একইভাবে তথাকথিত RAM Cleaner সাধারণত চলমান সফটওয়্যারের তথ্য জোর করে স্মৃতি থেকে সরায়। পরে সেই তথ্য আবার সংরক্ষণযন্ত্র থেকে পড়তে হওয়ায় সাময়িকভাবে গতি কমতেও পারে। RAM খালি দেখানোই কম্পিউটার দ্রুত হওয়ার প্রমাণ নয়; প্রয়োজনের সময় স্মৃতি সঠিকভাবে ব্যবহার হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

২৩. কখন নতুন যন্ত্রাংশ বা নতুন কম্পিউটার প্রয়োজন

সব সেটিংস পরিবর্তনের পরও পুরোনো কম্পিউটার দিয়ে বর্তমান ভারী সফটওয়্যার দ্রুত চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। যন্ত্রাংশের মৌলিক ক্ষমতার সীমা সফটওয়্যার দিয়ে অতিক্রম করা যায় না।

নিচের পরিস্থিতিতে হার্ডওয়্যার উন্নয়ন বিবেচনা করা যায়—

  • Windows এখনো পুরোনো HDD থেকে চলছে
  • স্বাভাবিক কাজেই RAM নিয়মিত প্রায় পূর্ণ থাকে
  • যন্ত্রটি সমর্থিত Windows সংস্করণ চালাতে পারে না
  • Processor সাধারণ কাজেও নিয়মিত শতভাগ ব্যবহৃত হয়
  • সংরক্ষণযন্ত্র স্বাস্থ্য সতর্কতা দেখায়
  • অতিরিক্ত গরমের কারণে বারবার গতি কমে
  • প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ হয় না

যদি HDD ও কম RAM ছাড়া বাকি যন্ত্রাংশ ব্যবহারযোগ্য থাকে, তাহলে SSD ও সামঞ্জস্যপূর্ণ RAM দিয়ে কম খরচে কিছু বছর ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু খুব পুরোনো Processor, সীমিত মূল বোর্ড এবং অসমর্থিত পরিচালন ব্যবস্থা থাকলে একের পর এক যন্ত্রাংশ বদলানোর খরচ নতুন বা তুলনামূলক আধুনিক কম্পিউটারের কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

কম্পিউটার দ্রুত রাখার জন্য কতদিন পর কী করবেন

কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখতে প্রতি সাত দিন পর সব অস্থায়ী ফাইল মুছতে হবে—এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। কাজের ধরন অনুযায়ী একটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা যায়।

সপ্তাহে একবার কম্পিউটার পুরোপুরি পুনরায় চালু করুন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজার Tab বন্ধ করুন। মাসে একবার সংরক্ষণস্থানের খালি জায়গা, চালুর সফটওয়্যার ও Windows Update পরীক্ষা করা যথেষ্ট হতে পারে। কয়েক মাস পরপর বাতাস চলাচলের ছিদ্রে ধুলা জমেছে কি না দেখুন।

অন্যদিকে হঠাৎ ধীর হওয়া, অতিরিক্ত গরম, অস্বাভাবিক শব্দ বা ড্রাইভের সতর্কতা দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে তখনই কারণ পরীক্ষা করতে হবে।

কম্পিউটার অটোমেটিক রিস্টার্ট: কারণ, সতর্ক লক্ষণ ও নিরাপদ সমাধানের নিয়ম

শেষ কথা

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর কাজটি কোনো একক গোপন নির্দেশ বা পরিষ্কারকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে না। চালুর সময় অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ, যথেষ্ট সংরক্ষণস্থান রাখা, নিরাপত্তা পরীক্ষা, ব্রাউজারের চাপ কমানো এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—এসব প্রাথমিক কাজ অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়।

এরপরও সমস্যা থাকলে Task Manager-এর তথ্য দেখে বোঝা প্রয়োজন, সীমাবদ্ধতা RAM, সংরক্ষণযন্ত্র নাকি Processor-এ। পুরোনো HDD-এর পরিবর্তে সামঞ্জস্যপূর্ণ SSD এবং প্রয়োজন অনুযায়ী RAM বাড়ানো বাস্তবে উপকারী উন্নয়ন হতে পারে। তবে যন্ত্রাংশ কেনার আগে কম্পিউটারের মডেল, সংযোগ ও সর্বোচ্চ সমর্থন যাচাই করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অপ্রমাণিত PC Booster, নিয়মিত Prefetch মুছে ফেলা, Tree নির্দেশ চালানো বা প্রয়োজনীয় Windows Service নির্বিচারে বন্ধ করার বদলে সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুযায়ী সমাধান করা। এতে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ফাইল ও কম্পিউটারের স্থিতিশীলতাও সুরক্ষিত থাকবে।

FAQ

০১। কম্পিউটার ধীর হলে প্রথমে কোন কাজটি করা উচিত?

প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করে কম্পিউটার পুনরায় চালু করুন। এরপর Task Manager থেকে CPU, Memory ও Disk ব্যবহার দেখে কোন সফটওয়্যার বা যন্ত্রাংশে চাপ বেশি তা শনাক্ত করুন।

০২। Temporary File মুছলে কি কম্পিউটার দ্রুত হয়?

ড্রাইভে জায়গার সংকট থাকলে অপ্রয়োজনীয় অস্থায়ী ফাইল পরিষ্কার করা উপকারী। তবে শুধু অস্থায়ী ফাইল মুছলেই Processor বা RAM শক্তিশালী হয় না এবং সব ধীরগতির সমস্যা সমাধান হয় না।

০৩। Prefetch ফাইল মুছে ফেলা কি নিরাপদ?

নিয়মিত Prefetch ফাইল মুছে গতি বাড়ানোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। Windows প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তথ্য আবার তৈরি করে। জায়গা পরিষ্কারের জন্য Storage Sense বা Temporary files ব্যবহার করা ভালো।

০৪। HDD পরিবর্তন করে SSD লাগালে কি গতি বাড়বে?

Windows চালু হওয়া, সফটওয়্যার খোলা এবং ফাইল পড়ার অপেক্ষা সাধারণত কমে। তবে দুর্বল Processor বা অপর্যাপ্ত RAM-এর সীমাবদ্ধতা শুধু SSD লাগিয়ে দূর হবে না।

০৫। RAM বাড়ালে কি সব কম্পিউটার দ্রুত হবে?

চলমান কাজের সময় বর্তমান RAM প্রায় পূর্ণ হলে বাড়তি RAM উপকারী। কিন্তু স্মৃতির ব্যবহার কম থাকলে শুধু ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে বড় পরিবর্তন নাও পাওয়া যেতে পারে।

০৬। ল্যাপটপে Cooling Pad ব্যবহার করা কি প্রয়োজন?

ল্যাপটপের নিচে বাতাস চলাচল কম হলে Cooling Pad সহায়ক হতে পারে। তবে ভেতরের ফ্যান নষ্ট বা ধুলায় বাতাসের পথ বন্ধ থাকলে আগে মূল সমস্যাটি ঠিক করতে হবে।

০৭। Registry Cleaner ব্যবহার করা উচিত কি?

সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য Registry Cleaner প্রয়োজন নেই। ভুল তথ্য মুছে গেলে Windows বা সফটওয়্যারে সমস্যা তৈরি হতে পারে। Windows-এর নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করাই নিরাপদ।

০৮। কম্পিউটার গরম হলে কি গতি কমে যায়?

নিরাপদ সীমার বেশি গরম হলে Processor নিজেকে রক্ষার জন্য কাজের গতি কমাতে পারে। বাতাসের পথ বন্ধ, ধুলা, ফ্যানের সমস্যা বা অনুপযুক্ত স্থানে ব্যবহারের কারণে এমন হতে পারে।

শামীম রেজা
শামীম রেজা

আমি শামিম রেজা, Tech Tips Desk-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রযুক্তি সাংবাদিক এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা। ২০০৬ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, গ্যাজেট, অ্যাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে আসছি। প্রযুক্তিকে সহজ ভাষায়, নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পাঠকের কাছে তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য। Tech Tips Desk-এর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি সংবাদ, বিস্তারিত রিভিউ, ব্যবহারিক টিপস ও গাইড প্রকাশ করে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য একটি বিশ্বস্ত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান